গাজীপুর, ৯ মে : কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার এক পৈশাচিক ও লোহমর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী, তাঁর তিন শিশু সন্তান এবং তাঁর এক ভাই রয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা উঁকি দিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের ভেতরে ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়, তাঁকে নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল ২ থেকে ৫ বছর বয়সী তিন অবুঝ শিশুর গলাকাটা মরদেহ। এছাড়া খাটের ওপর শ্যালকের গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর আলামত পেয়েছে। বাড়ির ভেতরে যে তিনটি স্থানে মরদেহগুলো পড়ে ছিল, তার প্রতিটি জায়গাতেই মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো কোনো মামলার নথিপত্র। এছাড়া ঘর থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করেছে পুলিশ।
প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরে এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় ফোরকান তাঁর স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তবে মরদেহের পাশে মামলার নথিপত্র কেন রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :